
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়- আমি আসলে এনসিপি না-কি বাসদ করি? আমার শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আছেন তাদের কাছে এই উত্তর অজানা নয়। এমন প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প লিখেন কলামিস্ট জাফর হোসেন জাকির।
রবিবার ( ১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকালে জাফর হোসেন জাকির তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, তারপরেও এক কথায় বলতে গেলে- আমি একজন পদবি হীন এনসিপির কর্মী। বাসদের রাজনীতির সাথে এখন সংশ্লিষ্টতা একেবারে নাই।
রাজনীতিতে হাতে খড়ি বাবার লাল টুকটুকে স্বপ্নের হাত ধরেই। রাজনীতির এতো মারপ্যাচ বুঝে ওঠার আগেই বাবার কণ্ঠের সাথে তার মিলিয়ে শোষণ মুক্তি আর সাম্যের সমাজ বির্নিমাণের স্লোগান দেওয়া শুরু করি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাবার হাতের লাল পতাকা আমার হাতে তুলে নিই। চিন্তায়, চোখে, মগজে শুধুমাত্র সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার বাসনা। একাডেমি পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার রাজনৈতিক বই পড়ার যাত্রা শুরু করি, নিজেকে বিপ্লবী গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় নামি।
২০১৬ সালে পড়াশোনা সুবাদে পাড়ি দেই জয়পুরহাটে। দশম শ্রেণির ছাত্র। পার্টির মেসে থাকার কারণে দলের সাথে আরও ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে যাই। তনু'কে সেনানিবাসে ধর্ষণের হত্যার প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের হরতাল কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে প্রথম গ্রেফতার হই। এসএসসি পরিক্ষার কারণে বাড়িতে ফিরে আসি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মসূচি আর লেখনি কারণে তাদের কাছ থেকে হামলার হুমকি প্রতিদিনের ঘটনা।
ইন্টারমেডিয়েটে আবার জয়পুরহাট। শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র কায়েমের নেশায় বিভোর হয়ে যাই। শিক্ষা বাণিজ্যে বিরুদ্ধে আন্দোলন, পরিবেশবাদী আন্দোলন, নদী রক্ষার আন্দোলন, ধর্ষণ- নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি প্রতিবাদ প্রতিদিনের কর্মসূচি হয়ে দাড়ায়।
ছুটিতে বাড়িতে আসলে ২০১৮ সালে বন্ধুর সাথে রাজনৈতিক আলাপচারিতায় বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালের মাঠ থেকে মাদকবিরোধী অভিযানে নাম করে আমাকে দ্বিতীয়বার গ্রেফতার করা হয়। ছাড়া পেয়ে চলে যাই মেসে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন তখন তুঙ্গে। আন্দোলনরত অবস্থায় জয়পুরহাট কাশেম ময়দান থেকে তৃতীয়বার গ্রেফতার হই।
এইচএসসি শেষ করে পারিবারিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে নিজ জেলা কলেজে অনার্স ভর্তি হই। ২০১৮ সালে আমাকে ডিমলা উপজেলার ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এর আগে সব জায়গায় সংগঠক পরিচয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাই। এর পর আর ছাত্র ফ্রন্ট/বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের কোনো কমিটিতেই ছিলাম না।
২০২০ সালে বাসদের ব্যানারে তিস্তা রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে বড় ভাইসহ (রাশেদ) ডিমলায় পারভেজ বাহিনীর হামলা ও হেনস্তার শিকার হই। সময় গড়ার সাথে সাথে এবং শোষণ মুক্ত রাষ্ট্র গঠনের নেশায় আমরা পুরো পরিবার রাজনীতিতে সক্রিয় হই।
২০২২ সালে রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখির যুদ্ধে যুক্ত হই। প্রতিনিয়ত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখতে শুরু করি। যুক্ত হতে থাকে রাজনীতির পাশাপাশি কলম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিজ এলাকায় সামন থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নবজাতক শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে থাকতে হয়। ৫ আগষ্টের পর ডিমলা উপজেলায় সমস্ত প্রোগ্রাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যুক্ত হই। জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পাই। দলে (বাসদ) ফিরতে বললে আমি বৈষম্যবিরোধী প্লাটফর্মে কাজ করবো বলে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানাই। কিন্তু এ-ও বলি, বাসদ আমাকে রাজনীতিভাবে যা শিক্ষা দিয়েছে তা সারাজীবন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবো। এরপর কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় কমিটি আমার সাথে রাজনৈতিকভাবে যোগাযোগ হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি, এরপর এনসিপির জন্ম। এনসিপির পদধারী না হয়েও এযাবৎ ডিমলা উপজেলার সমস্ত প্রোগ্রামে রাজনৈতিক দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে স্লোগান, বক্তৃতা ও সমাবেশ পরিচালনায় সর্বোচ্চ দিয়ে ভূমিকা পালন করে আসছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নতুন করে বিনির্মাণের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ জেনে বুঝে হাত ছাড়া করতে চাই না। মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের ধারায় যেহেতু বাম-ডান সকল মতাদর্শের মানুষ নিয়ে এনসিপি গঠন হয়েছে মূলত সেই জায়গা থেকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় পদবি হীন এনসিপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে এলাকায় চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও অপরাজনীতি প্রতিহতে সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সংগঠন ‘বালাপাড়া গণ-সুরক্ষা পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করি। পরিষদে আমি ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতেও ডিমলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অটোশ্রমিকদের থেকে চাঁদা নেওয়া, রিকজিশন ডিউটির নামে হয়রানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে ডিমলা অটোচালক শ্রমিক সংগঠনের শ্রমিক গবেষণা সেলের দায়িত্ব পালন করছি।
উল্লেখ্য তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেন থাকেন। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন।